মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আজকের প্রেক্ষাপট


সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আজকের প্রেক্ষাপ






‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শিরোনামটি বুঝিয়ে দিচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে আমরা অপসংস্কৃতির ভয়ানক অনুপ্রবেশকেই বুঝাতে চাচ্ছি। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপসংস্কৃতির বিস্তার কি ধরণের মানসিক ও বৈষয়িক পরিবর্তন সাধণ করছে, জনমনে কি ধরণের প্রভাব বিস্তার করছে, এর পরিণতি কি রকম হতে পারে, এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ই বা কি হতে পারে, এ বিষয়ে আলোচনা করা, সঠিক পথ নির্ণয় করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করাই উদ্দেশ্য। এ জন্য সারাদেশের মসজিদ-মাদরাসা, ইশকুল-কলেজে, কৃষক-শ্রমিক সমাবেশে এবং গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রতিষ্ঠানেই আলোচনা প্রয়োজন, দেশের সকল পর্যায়ের নাগরিককে সচেতন করা দরকার নতুবা বাংলাদেশ এক গভীর আন্ধকার আবর্তে নিমজ্জিত হওয়ার আশংকা স্পষ্ট।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন সম্পর্কে আলোচনার প্রথমেই আগ্রাসন শব্দটির তাৎপর্য স্মরণ করা দরকার। অমমৎবংংরড়হ – ইংরেজি এই শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে বিনা উত্তেজনায় আক্রমণ করা। অথবা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা বা আক্রমণ করা। প্রথম বিপক্ষতাচারণ, প্রথম আঘাত বা আক্রমণ।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ‘আগ্রাসন’ শব্দটি যথাযথ কিনা তা তর্ক সাপেক্ষ। তবে যেটা বাস্তব তা হলো- ‘তোমার পছন্দের ওপরে আমার পছন্দকে কৌশলগতভাবে এমনভাবে চাপিয়ে দেবো যাতে তুমি পর্যায়ক্রমে তাতে প্রভাবিত হও এবং একসময় আমার পছন্দকে গ্রহণ করো। এটা একটা দিক। দ্বিতীয় বিষয় হলো যুব এবং তরুণ সম্প্রদায়ের শিক্ষা মাধ্যমে এমন কিছু বিষয় সংযুক্ত করবো এবং এমন কিছু বিষয় কৌশলে বাতিল করবো যাতে তাদের চিন্তাধারার পরিবর্তন সাধিত হয় এবং আমার পছন্দকে নিজের পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যিনি তার পছন্দকে অন্যের মধ্যে প্রভাবিত করেন সেই প্রভাবিত ব্যক্তিটি পছন্দ বিস্তারকারীর ফ্যান হয়ে যায়। ‘ফ্যান’ শব্দটি সাংস্কৃতিক বা ফিল্মী শব্দ। বাংলারূপ হচ্ছে ‘ভক্ত’ বা ‘অত্যুৎসাহী সমর্থক’। সোজা কথায় আমরা যাকে মানসিক গোলাম বা দাসশ্রেণি অথবা আরো স্থুলোভাবে বলতে গেলে দালাল হিসেবে অভিহিত করি। যুগ যুগ ধরে মুসলিম জনগোষ্ঠির মধ্যে এই শ্রেণির দালাল তৈরি হয়েছে। আর এই দালালদের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে।
অনুপ্রবেশের পথঃ
১· রেডিও
২· ইলেক্ট্রনি মিডিয়া
৩· বিজ্ঞাপনশিল্প
৪· সংগীত শিক্ষালয়
৫· নাট্যবিদ্যালয়
৬· নাট্যশালা
৭· আর্ট ইশকুল
৮· ফ্যাশন শো
৯· সংগীত ও অভিনয় প্রতিযোগিতা
১০· সুন্দরী প্রতিযোগিতা
১১· সংবাদপত্র
১২· ম্যাগাজিন
১৩· পাঠ্যপুস্তক
১৪· সাহিত্য
১৫· সেমিনার
১৬· এনজিও
১৭· হাসপাতাল
১৮· বিউটি পার্লার
১৯· শিক্ষাবৃত্তি
২০· ক্লাব বা সমিতি
২১· সাংস্কৃতিক সফর
২২· এবং চলচ্চিত্র
এসব ছাড়াও আরো বিভিন্ন পথ থাকতে পারে, তবে এসবের সাথে জড়িতরা বেশিরভাগই তাদের কার্যক্রমের ফল বা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জ্ঞাত নন অথবা অসচেতন। তবে নিঃসন্দেহে সবাই নিজস্ব বিশ্বাস এবং বিশ্বাস অনুযায়ী কর্তব্য কর্ম থেকে বিচ্যুত। তদের ধারণা দেয়া হয়েছে, জাতির বৃহত্তর কল্যাণের জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। এই অহংকারে বিশ্বাস অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমান, যুগে যুগে আল্লাহ নবী রসূল কেনো পাঠিয়েছেন এবং মৃত্যুর পরে কেমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে, এসব বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান লাভে তাদের অনিহা।
আসলে অপসংস্কৃতি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানুষের রিপুকে তাড়িত করে এবং যা তারা করছে সে বিষয়ের ধারণাকে একান্ত বিশ্বাস হিসেবে তাদের চিন্তারাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করে। তার বাইরে অন্যকোনো বিশ্বাসের দিকে তারা ধাবিত হবার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। আল কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে এধরণের মানুষ যতোটা না তৌহিদবাদী তার চেয়ে অনেক বেশি শিরককারী।
আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার দ্বিতীয় রূকুর শুরুতে বলেছেন, ‘কিছু লোক এমনও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর ওপর ও আখেরাতের দিনের ওপর ঈমান এনেছি অথচ আসলে তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ সাথে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে ধোঁকাবাজী করছে। কিন্তু আসলে তারা নিজেদেরকেই প্রতারণা করছে, তবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন নয়। তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ, আল্লাহ সে রোগ আরো বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যখনি তাদের বলা হয়েছে জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তারা এ কথাই বলেছে, আমরাতো সংশোধনকারী। সাবধান! এরাই ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী, তবে তারা এব্যাপারে সচেতন নয়।’
অপসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অবৈধভাবে প্রেম করার কৌশল, ভাষা বিন্যাস, পোষাকের স্টাইল, চুল-চেহরার বিন্যাস, পিতা-মাতার নফরমানী, আত্মহত্যায় হত্যায় উদ্বুদ্ধ করা- এধরণের যতো অনাচার ও সংকীর্ণতা প্রতিষ্ঠিত করা হয়। যুব থেকে বৃদ্ধদের মন-মস্তিষ্কে ব্যাভিচার করার আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়। এতে করে মানুষের সৃজনশীল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়, মানুষ হয় পরিশ্রম বিমুখ এবং ধীরে ধীরে পরনির্ভর হয়ে রিজিক রোজগারের জন্য হাহাকার করে মরে। অথচ বলা হচ্ছে [অপ] সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড মানুষকে আনন্দ দেয়। তার শরীরের মধ্যে নিউক্লিয়াস, নার্ভাস সিস্টেম, নিউরণ, কোষ, প্রটোপ্লাজম এসবের পরিবর্তন সাধিত হয়ে সে নতুন করে কর্মউদ্দীপনা লাভ করে।
তাই [অপ] সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতরা নির্দ্বিধায় বলে থাকে তারা মহান পেশায় নিয়োজিত। দেশ ও জনগণের কাছে তাদের মর্যাদা অনেক উঁচুতে। তাদের [অপ] সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত না হলে দেশে চুরি-ডাকাতি, হাইজ্যাক, কিডন্যাপ, সন্ত্রাস আরো বহুগুণে বেড়ে যেতো। তারা উদাহরণ পেশ করেন, ’ধরা যাক একটা এলাকায় কয়েক ব্যক্তি জুয়া খেলতে বসেছে, জুয়ার অর্থে টান পড়লে তারা ডাকাতি করতেও পিছ পা হয় না। কিন্তু যদি আশে-পাশে কোথাও ভালো সিনেমা প্রর্দশিত হয় অথবা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় তবে তারা জুয়া ফেলে অবশ্যই তা দেখতে যাবে। এতে তারা অপরাধী কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
জুয়া খেলতে গিয়ে ডাকাত হওয়া আর [অপ] সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে রিপু তাড়িত হয়ে ধর্ষণ মনোবৃত্তি তৈরি হওয়ার এই ফ্যাসাদকে কিভাবে তারা ব্যাখ্যা করবেন তা বলা মুশকিল। তবে বাকচাতুর্য দিয়ে অন্যকে বিভ্রান্ত করা সহজ হলেও সত্যকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সত্য এটাই যে মহান সৃষ্টিকর্তা অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ করেছেন আর অশ্লীলতা তাই, যা মানুষের রিপুকে তাড়িত করে এবং মন-মস্তিষ্ককে যৌন্যতার ভাবনায় নিমজ্জিত করে।
কজন ব্যক্তি সারাদিন সৎকাজ করে আনন্দ পেতে পারে। তাতে তার শরীরের ক্যামিকেল রিএ্যাকশানে সে বহুগুণে সতেজ হতে পারে। এ সতেজতা পরিণামে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে না। কিন্তু অপসংস্কৃতির আনন্দের ভয়ংকর দিক এটাই যে তা সতেজতা আনলেও পরিণামে মানুষকে অবসাদগ্রস্ত এবং বিকারগ্রস্ত করে ফেলে। বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অপসংস্কৃতি অনুপ্রবেশের পথ হিসেবে যেসব মাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত প্রত্যেকটি মাধ্যম এক একটি সংগঠন। এখানে থাকেন অর্থ বিনিয়োগকারী। তিনিই সংগঠনের নেতা। এক একটি প্রোডাকশনে আবার ছোট ছোট বহু সংগঠন থাকে। যেমন একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার, যার সংগঠনের সদস্য কয়েকজন প্রোডাকশন বয়। ড্রেস, মেকাপ অথবা মিউজিকাল হ্যান্ডস এসব সংগঠনগুলির সাথে প্রোডাকশন ম্যানেজার সমন্বয় সাধন করেন। এইভাবে সর্বচ্চো নেতা অর্থ বিনিয়োগকারী ব্যক্তিটি পর্যন্ত একটি বৃহৎ সাংগঠনিক রূপে আমরা সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলিকে পাই। এটা একটি সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক। যখন বলা হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন- তখন আগ্রাসনকারী হিসেবে পিছনের কোনো শক্তিকে আমরা ধারণা করি। কিন্তু বাস্তবে পিছনের শক্তিটি কিভাবে কাজ করে, তাদের কাজের পরিধি কেমন, তারা কি সরাসরি কোনো নির্মাতাকে বা কোনো মিডিয়া মালিককে বলে, যে আমাদের এই আইডিয়াকে প্রচার করো- তোমাকে এতো এতো টাকা দেবো? আসলে এর স্বরূপ উদঘাটন করা বড় জরুরী বিষয়।
তবে এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, জিদ পূরণের জন্য অটল এবং স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যে কোনো ঘৃণিত পথ গ্রহণ করার ব্যাপারে ইহুদী জাতি অন্যতম। যতোদূর জানা যায় ইহুদী জাতির প্রতিটি সদস্য প্রতিদিনই তাদের ইচ্ছা পূরণ করার ব্যাপারে শপথ করে। শপথ করতে করতে তারা বৃদ্ধ হয়ে যায়, মারা যায় এবং তাদের পরের প্রজন্মও ঐ একই শপথ করতে থাকে, এইভাবে বংশ পরমপরায় তাদের শপথ অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যায়। প্যালেস্টাইন দখল তারই প্রমাণ। প্রতিটি ইহুদী প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই প্রতিজ্ঞা করে, ’প্যালেস্টাইনের প্রত্যেক মুসলমানকে আমরা হত্যা করবো, মুসলমানকে হত্যা করা আমাদের জন্য পূণ্যের কাজ।’
স্বল্পসংখ্যক ইহুদী আমেরিকাকে এমন কব্জায় রেখেছে যে বলা হয় আমেরিকা আমেরিকা নয়, আমেরিকা হলো বড় ইসরাইল, আর ছোট ইসরাইল প্যালেস্টাইন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় অর্ধেকটারই মালিক তারাই। সর্ববৃহৎ মিডিয়াগুলোও তাদের হাতে। যেহেতু তারা সুদপ্রথার জনক সেহেতু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াতে স্বল্প অর্থ বিনিয়োগ করে তারা কয়েশগুণ বেশি অর্থ আদায় করে। যখন অর্থ আদায় করাটা হয় কৌশলগত, তখন সে মাধ্যমগুলো হয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। আর যখন তা জোর-জবরদস্তি করে আদায় করতে হয় তখন তা যুদ্ধ এবং অন্যদেশ দখলের মাধ্যমে করে থাকে, তাও অন্যকে দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের পূর্বে সেদেশে তাদের অনুসৃত সাংস্কৃতিক কর্ম-কান্ডের প্রসার ঘটায় এবং দালালদের জন্য একটা বিশাল জনসমর্থন আগে থেকে প্রস্তুত রাখে। কারণ তাদের কাছে একমাত্র সাংস্কৃতিক বন্ধুত্বই দৃঢ়তর। আর দালালরাই তাদের সাংস্কৃতিক বন্ধু। তাই বলা হয় সংস্কৃতি প্রবেশের পর প্রবেশ করে মিলিটারি। ইরাক, আফগানিস্তান এর বড় প্রমাণ। সংস্কৃতিগতভাবে যে দেশগুলোতে তারা প্রবেশ করতে পারে না সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে তারা ভয় পায়। কারণ যুদ্ধে নিয়োজিত হবার পর তাকে জায়েজ করার জন্য সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলো তাদের একমাত্র হাতিয়ার। একটু মনোযোগ সহকারে চিন্তাভাবনা করলে মনে হয় উক্ত বিশ্লেষণের যৌক্তিকতা মিলবে।
ইহুদীরা তাদের মোশাদ-এর অফিস খুলেছে ভারতে। ইহুদী এবং হিন্দু- পৃথিবীর এই দুটি জাতি তাদের নিজেদের ধর্মের মধ্যে অন্যকে গ্রহণ করে না। তাই ধরে নেয়া যায় অন্যের স্বার্থ, অন্যের কল্যাণ, এমনকি অন্যের অস্তিত্বও তাদের কাম্য নয়। এই দুটি শক্তি মিলে বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের দালালদের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে দোষারোপ করার পূর্বে আমাদের একটি বিষয় চিন্তা করা দরকার। তা হলো- যে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই সেখানেই রোগ আক্রমণ করে। কিন্তু যার শরীর সবল, প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রচুর, রোগ সহসা তার কাছে পৌঁছায় না। অতএব শুধু রোগকে গালি না দিয়ে নিজেদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধক শক্তি বাড়াতে হবে। দেশপ্রেম ঈমানের অংগ। তাই ঈমানকে সুদৃঢ় করতে হবে এটাই রোগপ্রতিরোধক।
সংস্কৃতির দুটি দিক
১· বৈষয়িক সংস্কৃতি- যথা, জমিজমা, দালানকোঠা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ।
২· মানসিক সংস্কৃতি- যা অনুপ্রবেশের পথ শিরোনামে বলা হয়েছে। উক্ত দুটি শক্তি বাংলাদেশে মানসিক সংস্কৃতি প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভে দালালদেরকে সহায়তা করছে বৈষয়িক সংস্কৃতির জোগান দেয়ার মাধ্যমে।
বৈষয়িক সংস্কৃতির পথঃ
১· বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব তৈরি, দালাল শ্রেণি ও প্রচার মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে ‘তারকা’ খ্যাতি দিয়ে জনপ্রিয় করে তোলা। ২· শাসনযন্ত্রে, আইন ব্যবসায়, মিডিয়ার বিভিন্ন শাখায় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের দালাল শ্রেণিকে প্রবেশ করানো।
অপসংস্কৃতির বাহকদেরকে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা দানে উক্ত দুটি গ্রুপ তৎপর থাকে। তারকা খ্যাতি লাভে সাহায্য করে। বিদেশে অপসংস্কৃতির বাহকদের সাথে সংযোগ ঘটায়। সুস্থ সংস্কৃতি বিশেষ করে ইসলামী সংস্কৃতিচর্চাকারীকে সাংঠনিক এবং শাসনতান্ত্রিকভাবে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করা হয়। যার মধ্যে শরিষার দানা পরিমাণ ঈমানের চিহ্ন দেখে, দালালরা দ্বিতীয়বার তাকে নিয়ে আর ভাবে না। কারণ উক্ত দুটি চক্রের দালাল শ্রেণি জন্মগতভাবে যারা ঈমানহীন তাদেরকেই চায়। [জন্মগতভাবে ইহুদী বা পৌত্তলিক না হলে তাদের মধ্যে বাহির থেকে যেমন কেউ ঢুকতে পারে না।]
ঈমানদাররা হন আত্মমর্যাদাশীল, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কুরআন ও হাদীস ছাড়া আর কোনো বিষয়ই তাদেরকে প্রভাবিত করতে পারে না। সাধারণত এরা যেমন দেশকে ভালোবাসেন তেমনি ভালোবাসেন জনগণকেও। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা যেমন দরীদ্রের জীবন গ্রহণ করতে পারেন, নেতৃত্ব ত্যাগ করতে পারেন, তেমনি অবলীলায় জীবনও দিতে পারেন। তাই তাদের বৈষয়িক ও মানসিক সংস্কৃতি ধ্বংস করতে তারা তৎপর।
আল্লাহতালা সূরা আন নূর-এর ১৯ নং আয়াতে বলেছেন, ‘যেসব লোক চায় যে, ঈমানদার লোকদের সমাজে নির্লজ্জতা বিস্তার লাভ করুক তাহারা দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহই জানেন, তোমরা জানো না।’
এখানে অশ্লীল সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতির সমস্ত বিষয়টি অত্যন্ত মনোগ্রাহীভাবে সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যমন্ডিত ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে। অশ্লীল কর্মকান্ডের যাবতীয় উপায়, উপকরণের মূল উপড়ে ফেলে সুস্থ এবং কল্যাণমূলক সমাজ নির্মাণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। অহেতুক আবেগ উচ্ছ্বাস সৃষ্টিকারী গল্প-কাহিনী, কবিতা, গান-বাজনা, চলচ্চিত্র, চিত্রশিল্প, ক্লাব-হোটেল- সবই এই নিষেধের অর্ন্তভূক্ত। এই আইনের দ্বারা নির্লজ্জতা বিস্তারের সমস্ত বাহনকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রমাণ করা হয়েছে সংস্কৃতির একমাত্র নিয়ন্ত্রক আল কুরআন এবং রসূল সা· এর সুন্নাত। বিশ্বাসহীন অপসংস্কৃতির বীজ বপনকারীকে আমরা দেখেছি মৃত্যুর পর ঢোলবাদ্য বাজিয়ে অপবিত্র করা হয়েছে। তার আত্মার অসম্মান করা হয়েছে। এটাই আল্লাহর ওয়াদা মোতাবেক দুনিয়ার শাস্তি।
ইহুদী আর পৌত্তলিকরা মুসলমানদের সমাজে দালালদের মাধ্যমে যে অপসংস্কৃতির বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে তাকে প্রতিহত করা জরুরী। বাংলাদেশের দালালগোষ্ঠী সুচিহ্নিত। তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেউ ’আল্লাহ’ বললে উক্তগোষ্ঠিটি তাকে সাম্প্রদায়িক বলে গালি দিচ্ছে।
শাসকের হাত ধরে যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বাংলাদেশে ঘটছে, উক্ত গোষ্ঠীটি সেই শাসনযন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন পার্টস হয়ে ইঞ্জিন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে রাস্তায় অশ্লীল পর্ণো সিডি বিক্রি হলেও এরা প্রতিবাদ করে না, দৈনিক পত্রিকায় ভারতীয় ছবির দৈনিক বিজ্ঞাপন দেখেও এরা টু শব্দ করে না। মোট কথা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে এরা আজপর্যন্ত কিছুই বলেনি। বরং কেউ কেউ বলেন অপসংস্কৃতি বলতে কিছু নেই। সবই সংস্কৃতি এবং সবারই তা গণতান্ত্রিক অধিকার। উক্তগোষ্ঠীটির অনেকে নাস্তিক, কিন্তু নাস্তিক হলেও তারা পৌত্তলিক ধর্ম ও সংস্কৃতিতে আগ্রহী। যদিও নাস্তিক শব্দটি স্বয়ং একটি সম্প্রদায়ের নাম বহন করে এবং বর্তমান বাংলাদেশের হানাহানিতে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করে, নাস্তিক একটা ধর্ম যা পৌত্তলিকঘেষা এবং অত্যন্ত সংর্কীর্ণ, নিষ্ঠুর এবং নিকৃষ্টতম উগ্র এক সাম্প্রদায়িক শক্তি। যারা সমস্ত কল্যাণের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যারা নিজের সম্প্রদায় ছাড়া অন্যকে সহ্য করে না। ইহুদী ও মুশরিকদের চেয়েও এরা ভয়ংকর প্রতিহিংসা পরায়ণ। শাসকরা এই গোষ্ঠিটির তল্পিবাহক। আমেরিকা যেমন ইহুদীদের তল্পিবাহক।
আর তাই এদের মাধ্যমেই দেশবাসি পাচ্ছে কালচারাল ক্রুয়েল্টি। রেপ সংস্কৃতি, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার সংস্কৃতি, ভিডিও গেম প্রচলন করে কচি শিশুদের মন-মস্তিষ্কে সন্ত্রাসের বীজ বপনের সংস্কৃতি, বৃদ্ধাশ্রমের সংস্কৃতি, মাদক সেবনের সংস্কৃতিসহ কল্যাণের বিরুদ্ধে সকলপ্রকার কু-সংস্কৃতি।
এদেশের মানুষ অষ্ট্রেলিয় সংস্কৃতি [যা অষ্ট্রিক নামে পরিচিত], দ্রাবিড়, আর্য, জৈন, বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করতে গিয়ে হীনবীর্য, দুর্বল, শক্তি-সাহসহীন এক গোলামী মানসিকতার অধিকারী হয়েছিলো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার হিম্মত তাদের ছিলো না। নিজেরা নিজেদের শাসন করা, দেখভাল করা, নিজেদের উন্নয়নের পথ তৈরি করা- এসব আর অবশিষ্ট ছিলো না। তাই কর্ণাটক থেকে বিদেশি শাসক সেনরা এসে জেঁকে বসেছিলো। জাতির ঐক্য ধ্বংস করে তারা জাতিভেদ প্রথার প্রবর্তন করেছিলো। ঠিক আজকে যেমন অপসংস্কৃতির দালালরা ভেদ তৈরি করতে চাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদরাসার ছাত্রদের ভর্তিতে গিয়ে বিষয়টি উন্নিত হয়েছে। কারণ মাদরাসার ছাত্ররা গরীব এবং গ্রামের কৃষক শ্রমিক পরিবার থেকে এসেছে। ধনী ও ইংলিশ ইশকুলে পড়া ছাত্ররা একই বেঞ্চে বসলে তাদের জাত যাবে। (বক্তব্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের)। সেনদের অত্যাচার থেকে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি ইসলামী আইন, শিক্ষা সংস্কৃতির প্রচলন ঘটিয়ে মানুষকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে অব্যাহতভাবে একমাত্র ইসলামই ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজকে সুসংহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অপসংস্কৃতির তান্ডবে ইতোমধ্যে দালালগোষ্ঠীটি পরিবারে ভাঙন সৃষ্টির প্রয়াস পেয়েছে। মিডিয়ায় প্রদর্শিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করতে গিয়ে একাত্মতা অনুভব করে, ভাব বিনিময় করে, একে অন্যকে বুঝতে পারে, নিঃসঙ্গতা দূর করতে চেষ্টা করে, পরিবারে সংহতি সৃষ্টি হয়- সেখানে প্রদর্শিত অপসংস্কৃতি দেখে লজ্জায় ছেলে মেয়েরা বাপ-মায়ের কাছ থেকে উঠে চলে যায়। আলোচনা আর হয় না। সংহতি নষ্ট হয়। ছেলে মেয়েরা নিঃসঙ্গতা দূর করার জন্য কেউ মাদকসেবী হয়, কেউ অন্য কুপথ অবলম্বন করে। এরা শান্তি খোঁজে থার্টিফাস্ট নাইটে, ভালোবাসা দিবসে, মোবাইল ফোনে এবং এমনি ধরণের চরিত্র ধ্বংসকারী সংস্কৃতির অবগাহনে। শারীরিক সৌন্দর্য রক্ষা, ফিটনেস, ফ্যাশান এবং নানা ধরনের ড্রেস, প্রসাধনী, বিনোদনের ইলেক্ট্রনিক্ম আইটেম, নানা ধরনের পানিয় এবং শেষমেশ বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন অষুধ নিয়ে হাজির হয় বহুজাতিক কোম্পানী। শাসকরা অপসংস্কৃতির প্রচলন ঘটিয়ে তার পরিণাম এবং ফলাফল উপশমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, যা সবই জনগণের কষ্টার্জিত রোজগার থেকে আসে।
একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় বৃটিশ-আমেরিকানরা ১৯৫১ সালে চীনে ৫০৪টি হাসপাতাল, ৯০৫টি ডিসপেন্সারি, ৩২টি খ্রিস্টিয় মিশনারী, ৩২০টি এতিমখানা, ৪০টি নার্সিং ইশকুল, ৩১টি কুষ্ঠরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র, ১২টি প্রোটেস্ট্যান্ট কলেজ পরিচালনা করেছে। ৩৫ হাজার চাইনিজ ক্যাথলিক মিশন কাজ করেছে। তারা বহুসংখ্যক সরকারী কর্মচারিকেও ট্রেনিং দিয়েছে। পরবর্তীকালে নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মাও সেতুং এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ড করেন অথবা চাইনিজ দালালদেরকে উৎখাত করে চাইনিজ সংস্কৃতির বাহকদের নিয়োগ দেন।
আজও ভারতে বাংলাদেশী চ্যানেল দেখানো হয় না। এবং সেখানকার কোনো পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক খবর ছাপানো হয় না। চীন, হংকং, সিংগাপুরে বিদেশী সংস্কৃতির প্রবেশ একপ্রকার নিষিদ্ধ। তাদের বক্তব্য হলো দেশের সকল মানুষ যখন দেশজ সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে তখনি বিদেশী সংস্কৃতি উন্মুক্ত হবে। আর দেশজ সংস্কৃতি প্রচলনের জন্য ঐসব দেশের সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খৃস্টিয় সাম্প্রদায়িক শাসক [বৃটিশ শাসক] ১৯১০ সালে বৃটিশ নর্তকী কুমারী মদ্-এ্যালেনের ভারত সফর স্থগিত করেছিলো। কারণ তাতে খৃস্টিয় শাসকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এই ছিলো তাদের সংস্কৃতি।
সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকদের স্মরণ রাখা দরকার, একমাত্র ইসলাম পরিবার ব্যবস্থাকে শান্তিময় করেছে। পিতা-মাতা, শিক্ষক-অভিভাবককে সম্মান দিতে শিখিয়েছে, মেহমানদারী করতে শিখিয়েছে, বিপন্নকে বুকে তুলে নিতে বলেছে, গরীবদেরকে দান করতে শিখিয়েছে মোট কথা সকলপ্রকার কু-সংস্কার ও অপসংস্কৃতিকে ধ্বংস করে মানবতার কল্যাণকে প্রতিষ্ঠিত করতে শিখিয়েছে।
সমস্ত অপসংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী কল্যাণকর সংস্কৃতির প্রচলন ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য আত্ননিয়োগ করতে হবে। মনে রাখা দরকার ইসলামী সংস্কৃতি পরিবার নামক সংগঠনকে রক্ষা করে। পারিবারিক সংগঠনই সামাজিক সংগঠনকে প্রগতির পথে নিয়ে যেতে স্থিতিশীল ভূমিকা পালন করে। ইসলামী সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুশাসনকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যায় এবং প্রত্যেক মানুষকে স্বশাসিত করে তোলে বা একটি কর্তৃপক্ষিয় ভূমিকা পালন করে। ইসলামী সংস্কৃতি সৃষ্টিধর্মী কল্পনাশক্তি এবং সৌন্দর্যতত্বের মাপকাঠিতে উত্তির্ণ শিল্পকর্ম নির্মাণ করতে প্রেরণা যোগায়। ব্যক্তির চরিত্রে সামঞ্জস্য তৈরি করে দেয়। ইসলামী সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে ‘মানসিক শিল্প’। তাই ইসলামী সংস্কৃতি ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, সমাজে সমাজে, ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সংগে পরিবারের, পরিবারের এক সদস্যের সাথে আর এক সদস্যের সম্পর্ক নির্ণয় করে এমন এক কর্তব্য সম্পাদন করে যা রাষ্ট্রকে উন্নত করে। যদিও ইসলামী সংস্কৃতি আজও সাংগঠনিক স্থিতি পায়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শাসকদের সহযোগিতা ছাড়া সাংগঠনিক স্থিতি পাওয়া কঠিন।
রাষ্ট্রে এবং সমাজে যখন অনিশ্চয়তা এবং উদ্বিগ্নতা আসে তখন একমাত্র ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাহস যুগিয়ে একের প্রতি অন্যের কর্তব্যকে জাগিয়ে তোলে। এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শাসনযন্ত্রকে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতা করা দরকার।
অপসংস্কৃতিকে প্রতিহত করা দরকার দুটি পন্থায়। ১· ইসলামী সংস্কৃতি সম্বন্ধে অভিজ্ঞদেরকে এগিয়ে আসা এবং নেতৃত্বকে সেইসব অভিজ্ঞদেরকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করার সুযোগ প্রদান করা। সংগে সংগে আধুনিক যান্ত্রিকতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তোলা। ২· অপসংস্কৃতির বাহক ও দালাল শ্রেণির মাঝে ইসলামের জ্ঞান পৌঁছানো। সংগে সংগে অপসংস্কৃতির প্রচারকারীদের সকল প্রকার মাধ্যমকে একতাবদ্ধ হয়ে পরিত্যাগ করা। পত্রিকা থেকে শুরু করে কোমল পানিয় পর্যন্ত সবকিছু।
আমাদের সাবধান হওয়া দরকার- সুস্থ, কল্যাণকর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকারীদের সকল সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার জন্য অপসংস্কৃতির বাহকরা ঐক্যবদ্ধ। তারা এদেশের শাসক শ্রেণিকেও ব্যবহার করছে। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পর মুসলমানদের অধঃপতিত যুগে তারা আজকের মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রত্যেক দেশপ্রেমিক সচেতন শ্রেণীকে সজাগ থেকে সাংগঠনিক শক্তি অর্জনের মাধ্যমে শাসকযন্ত্রের মধ্যে সর্বোত্তম ঈমানদার মুসলিম শ্রেণিকে বসাতে হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে। তাহলেই সত্যের বিজয় হবে, মিথ্যা অপসারিত হবে এবং বিশাল জনগোষ্ঠী অপসংস্কৃতির অন্ধকার বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্তি পাবে। এ বিশাল জনগোষ্ঠির নেতৃত্ব তাদের হাতেই তুলে দিতে হবে- ‘যাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে ক্ষমতা দান করলে তারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত দেয়, সৎ কাজের আদেশ দান করে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।’- আল-হাজ্জঃ ৪১।