শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী / পরীক্ষা ও প্রস্তুতি


ব্যাংকের চাকুরীতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন  রয়েছে অনেকের।দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ব্যাংকের ভূমিকা সীমাহীন।  "The economic structure of a country depends on the banking system of the country"- এই বাক্যের অর্থ ব্যাংক-ব্যবস্থার ওপর একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ভর করে। পৃথিবীর অন্যান্য সব রাষ্ট্রের মত আমাদের রাষ্ট্রে ও স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা শুরু হয়। 

পরবর্তীতে  ধারাবাহিকতার সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন বিশেষায়িত ব্যাংক,রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও প্রাইভেট ব্যাংক। প্রতিযোগিতার এই যুগে ব্যাংকসমূহের  সংখ্যা মোট ৫৫ এর ও অধিক, এছাড়া ও প্রত্যেক বছরই ব্যাংকগুলোর শাখা বরদ্ধি পাচ্ছে । ব্যাংকের  বেতন-ভাতাদি, সুযোগ-সুবিধা, চাকুরীর নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা থাকার কারণে এ পেশার প্রতি তরুণ-ত্রুণীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে
ব্যাংকের কাজঃ
"ব্যাংকের প্রধান কাজই হলো আমানত সংগ্রহ করা এবং সেই সংগৃহীত অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করা"। এ থেকে বোঝা যায় যে, একটি ব্যাংক মূলত আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও চেক প্রচলন করে থাকে। এছাড়া দেশ-বিদেশের বাণিজ্যের অর্থনৈতিক লেনদেন-এ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানও ব্যাংকের কাজ।
ব্যাংকে কাজের ক্ষেত্রঃ
আধুনিক ব্যাংকে কাজ হিসাবে  চারটি শাখা আছে। শাখাগুলোর কার্যপরিধি নিম্নে দেওয়া হলো :
#অপারেশন শাখা: সাধারণত এই শাখা আর্থিক প্রশাসনিক বিভাগ, অবকাঠামোগত বিভাগ, সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিভাগ, বিভিন্ন শাখা্র  তদারকি বিভাগ, মানব সম্পদ  বিভাগের কাজ সম্পাদন করে থাকে।
#ইনভেস্টমেন্ট শাখা: ব্যাংকের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শাখা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ভোক্তা বিভাগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিনিয়োগ নীতি ও পরিকল্পনা  বিভাগের কাজ এই শাখা সম্পাদন করে থাকে।এই শাখা মনিটরিং ও করে থাকে।
#ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং শাখা: এই শাখার উল্লেখযোগ্য বিভাগগুলো হলো বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করা, গার্মেন্টস বিভাগ, রাজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিভাগ।
#ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স শাখা: সাধারণত মনিটরিং বিভাগ, কমপ্লায়েন্স বিভাগ এবং অডিট ও তত্ত্বাবধান এই শাখার কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
ব্যাংক জব পরীক্ষার ধরনঃ
ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট এর পরীক্ষাসমুহে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও প্রশ্নের ধরন সাধারণত একই ধরনের হয়ে থাকে। এইসব নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়। প্রায় সব ব্যাংকেই এমসিকিউ পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষা হয়। এমসিকিউ অংশের প্রশ্ন হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি, পাজলস এবং ডাটা সাফিশিয়েন্সি অংশ থেকে। 

আর লিখিত বা বর্ণনামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকে গণিত, ইংরেজি ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি অংশ থেকে। তবে বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের প্রশ্ন একটু ব্যতিক্রম হয়ে থাকে। এ বিষয়গুলো ছাড়াও ইসলামী সংস্কৃতি ও অর্থব্যবস্থার ওপর বেশ কিছু প্রশ্ন থাকে। সরকারি এবং ইসলামী ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর প্রশ্ন করা হয় সাধারণত ইংরেজিতে। পরীক্ষার সময় এবং নম্বর বণ্টনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়।
সে সকল বিষয়গুলির উপর বেশী গুরুত্ব দিতে হবে তা নিম্নরুপঃ
বাংলার প্রস্তূতি
বাংলা বিষয়ক প্রশ্নগুলো করা হয় সাধারণত ব্যাকরণ এবং সাহিত্য অংশ থেকে। ব্যাকরণের ভাষা, বর্ণ, শব্দ, বাক্য, সন্ধি-বিচ্ছেদ, লিঙ্গান্তর, বচন, বানান শুদ্ধি, কারক ও বিভক্তি, সমাস, পদ, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, অনুবাদ, অর্থনীতিবিষয়ক প্রবন্ধ প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এ ছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎপত্তি এবং বিকাশ, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও কর্ম, সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, চরিত্র ও উক্তি, বিখ্যাত পত্রপত্রিকার সম্পাদক প্রভৃতি বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
ইংরেজি প্রস্তূতিঃ
চাকরি প্রার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজিতে বেশি ভুল করেন বলে এ বিষয়ে বিশেষ প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিশেষ করে letter, word, sentence, parts of speech, voice, narration, phrase and idioms, correction, tense, number, gender, person, completing sentence, correct spelling, synonym, antonym প্রভৃতি ভালোভাবে শিখতে হবে। এ ছাড়া বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ও রচয়িতা, কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও সৃষ্টিকর্ম, বিভিন্ন কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের চরিত্র ও বিশেষ উক্তিগুলো সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।
গণিতের প্রস্তূতিঃ
নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে অনেকেরই গণিতভীতি কাজ করে। এই ভয় কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় নিয়মিত অনুশীলন। ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় গণিত অংশে ভালো করতে গড়, গতি, অনুপাত, শতকরা, পরিমাপ ও একক, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি এবং পরিমিতির জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান ভালোভাবে শিখতে হবে। পাশাপাশি লসাগু-গসাগু, ঐকিক নিয়ম, বর্গ, সরল, মান নির্ণয়, সাধারণ চার নিয়ম, সামান্তধারা নির্ণয়, সমাধান এবং জ্যামিতিক সূত্র ও সংজ্ঞাগুলো শিখতে হবে।
সাধারণ জ্ঞান/ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীঃ
সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে। বাংলাদেশবিষয়ক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ভৌগোলিক বিষয়াবলি, আয়তন, সীমানা, নদ-নদী, কৃষিজ, বনজ, প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প ও বাণিজ্য, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, পুরস্কার ও সম্মাননা, অর্থনৈতিকব্যবস্থা, নৃতাত্তি্বক পরিচয় এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি জানতে হবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি, বিশ্ব রাজনীতি, মহাদেশ, দেশ ও জাতি, সীমারেখা ও স্থান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন, চুক্তি ও সনদ, পুরস্কার ও সম্মাননা, বিশ্ব অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্য, খেলাধুলা, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বিখ্যাত স্থান ও স্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে।
দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটারঃ
ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয় দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ে। প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, তাপ, আলো, বিদ্যুৎ, শব্দ, চুম্বক, মানবদেহ, উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা, খাদ্য ও পুষ্টি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, ভূগোল, প্রাকৃতিক ভূগোল, খনিজ ও মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল, যন্ত্রবিদ্যা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিঙ্ এবং কম্পিউটার সম্পর্কিত তথ্যগুলো জানা থাকতে হবে।
আইকিউ ও অ্যানালিটিকাল স্কিলঃ
ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিষয়গুলোর উত্তর করতে হবে। বিষয়টি বেশ কঠিন। তবে অফিসিয়াল জিম্যাট, ব্যারনস জিম্যাট কিংবা আইকিউ টেস্টের যেকোনো বই দেখে নিয়মিত চর্চা করলে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সহজ হয় যেকোনো পরীক্ষার্থীর জন্য।বন্ধুরা পড়াশুনার বিষয়গুলো তো জানা হল তাই আর দেরী না করে আজ থেকেই আপনার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিন।